541647_334540446668621_542341195_n
ব্রহ্ম ব্যতীত দেবতাদের কোন পৃথক
অস্তিত্ব আছে কিনা তাহাও বিচার
করিয়া দেখা দরকার ? ব্রহ্ম মানে কোন
রূপময় বস্তু বা দেবতা নহেন _
একটি অখণ্ড সত্তা যাহা ইন্দ্রিয়ের
অগোচর ,যাহা হইতে বিশ্বের
সৃষ্টি হইতেছে,যাহাতে এই বিশ্ব বিধৃত
হইয়া রহিয়াছে এবং এই নাম-রূপাত্নক
বিশ্ব যাহাতে লীন হইয়া যায়,এরূপ
একটি অদৃশ্য সত্তারই নাম ব্রহ্ম ।
তাহাতে ভাবও নাই অভাবও নাই ।এই
অদৃশ্য ব্রহ্ম সত্তারই বহু গুণময়
ভাবের কল্পনা করা হইয়াছে ।
এই কল্পিত ভাবেরই নাম দেবদেবিগণ ।
যেমন-ব্রহ্মের বিদ্যাবৃত্তির নাম
স্বরস্বতী ;ধন-সম্পদের অধিষ্ঠাত্রীর
নাম লক্ষ্মী ; জ্ঞানবৃত্তির নাম
গণেশ ; শক্তি প্রকাশের নাম
কার্ত্তিক ; মনের জ্ঞান-অজ্ঞান
ভাবের নাম কালী ; যোগাবস্তার নাম
শিব ইত্যাদি ।
এইভাবে ব্রহ্মেরই এক একটি ভাবের
প্রকীক মাত্র । প্রতীকের
পূজা দ্বারা ভাবের পূজা হয় না কিন্তু
ভাবের পূজা দ্বারা ভাবের পূজা হয় ।
যেমন_ধন-সম্পদের প্রতীক
লক্ষ্মীদেবী ।লক্ষ্মীদেবীর
পূজা করিলে ধন-সম্পদ আসে না কিন্তু
ধন-সম্পদের পূজা বা ধন-সম্পদ
উপার্জনের চেষ্টা করিলে ধন-সম্পদ
পাওয়া যায় । অনুরূপভাবে বিদ্যার
প্রতীক স্বরস্বতীদেবী ।
স্বরস্বতীদেবীর মূর্তি পূজা করিলেই
বিদ্যালাভ হয় না কিন্তু বিদ্যাশিক্ষার
অনুশীলন করিলে বিদ্যালাভ হয় ।
সুতরাং ভাবেরই পূজা করা উচিত্-
প্রতিকের নহে ।সর্বত্র পূজার অনূরূপ
বস্তূই লাভ হয় ,আব মৃর্তির
পূজা দ্বারা মূর্তিই লাভ হয় ।
মূর্তি পূজার দ্বারা ভাব লাভ হয় না ।
কাহারও
একখানা ফটো দেয়ালে টাঙ্গানো আছে ,
ঐ ফটোখানাকে স্নান
করাইলে বা খাওয়াইলে যেমন মূল
ব্যাক্তির স্নান হয় না ,তাহার পেটও
ভরে না ,তদ্রূপ ব্রহ্মের কল্পিত
মূর্তিরূপ প্রতীকের
আবাহন ,ভোগনৈবদ্য দান বা বিসর্জনের
দ্বারা ব্রহ্মের কিছুই হয় না _মনের
কল্পনা মনেতেই লয় পাইয়া যায় । তাই
ঋগ্বেদ বলিয়াছেন , “ন তস্য
প্রতীমা অস্তি যস্য নামঃ মহদ্ যশঃ “
Advertisements